ঈদযাত্রায় সড়কে প্রাণহানি: প্রতিদিন গড়ে ২০ মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ০২ April ২০২৬, ১২:৩০ PM | পঠিত: ১৬ বার

্নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলতি বছরের যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ থেকে ২৮ মার্চ—এই ১৫ দিনে সারা দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৯৮ জন এবং আহত হয়েছেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৪৬ জন এবং শিশু ৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়—১৪৩টি ঘটনায় মারা গেছেন ১১৬ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৯ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহত হয়েছেন ৪৭ জন এবং চালক ও সহকারী ৩৬ জন।
যানবাহনভিত্তিক হিসাবে বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন ৪১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৫০ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে ২০ জন এবং ট্রাক-পিকআপে ১৩ জন। মোট ৬১৮টি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল, যার মধ্যে মোটরসাইকেল ১৫৩টি এবং থ্রি-হুইলার ১৩৮টি।
সড়কের ধরন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে (৪৩.১৬%), এরপর জাতীয় মহাসড়কে (৩০.৮৩%)। শহরের সড়কে ১১.২৬% এবং গ্রামীণ সড়কে ১২.৮৬% দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ হারানো (৪০.৭৫%), মুখোমুখি সংঘর্ষ (২৫.৭৩%) এবং পথচারী চাপা দেওয়ার ঘটনা (১৩.১৩%) চিহ্নিত করা হয়েছে। সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকাল ও দুপুরে দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।
বিভাগীয় পরিসংখ্যানে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি—৯৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ৭৪ জন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রামেই সর্বোচ্চ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদে রাজধানী থেকে এক কোটির বেশি মানুষ গ্রামে গেছেন এবং সারা দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। দীর্ঘ ছুটি থাকলেও দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ভাড়া এবং অনিরাপদ যানবাহনের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৫ সালের তুলনায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬.৪২ শতাংশ, তবে প্রাণহানি কমেছে ১২.২৪ শতাংশ। তবে এই হ্রাসকে ইতিবাচক উন্নতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কিশোর-যুবকদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালনাকে দায়ী করেছে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে অন্তত তিন বছর মেয়াদি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রেলপথ সম্প্রসারণ, নৌপরিবহন উন্নয়ন, বিআরটিসির বাস বৃদ্ধি, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, কার্যকর নীতি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।