যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যক্ষ্মা সংক্রমণ, আবারও শীর্ষ সংক্রামক ঘাতক হিসেবে উদ্বেগ
ডেস্ক রিপোর্ট :
মানব ইতিহাসে ‘হোয়াইট প্লেগ’ নামে পরিচিত যক্ষ্মা (টিবি) আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-এ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০ সালের পর থেকে দেশটিতে যক্ষ্মা সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩ সালে যক্ষ্মা আবারও বিশ্বে শীর্ষ সংক্রামক রোগ হিসেবে স্থান ফিরে পেয়েছে, যা আগে COVID-19 দখল করে রেখেছিল।
গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি এমন অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে, যেখানে মানুষ নিজেদের তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে।
যক্ষ্মা কীভাবে ছড়ায়
যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত রোগ, যা মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামের ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।
লক্ষণ ও ঝুঁকি
দীর্ঘদিন কাশি, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত বা কফ, জ্বর, রাতে ঘাম, ওজন কমে যাওয়া ও অতিরিক্ত ক্লান্তি—এসব যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন ডায়াবেটিস বা এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাপরবর্তী সময়ে ভ্রমণ ও অভিবাসন বৃদ্ধি, কিছু অঞ্চলে রোগের বিস্তার এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর উদ্ভব—এসব কারণ যক্ষ্মা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য হলেও চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি—সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাস ওষুধ সেবন করতে হয়। মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করলে রোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মাস্ক ব্যবহার, বায়ু চলাচল বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি বিসিজি টিকা যক্ষ্মা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সতর্কবার্তা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যক্ষ্মা এখনো বিশ্বের জন্য বড় হুমকি। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
