কারাগারে মরলেও নীতিতে আপস নয়: ইমরান খানের দৃঢ় অবস্থান
ডেস্ক রিপোর্ট :
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান কারাগারে থেকেও নিজের নীতির প্রশ্নে আপস না করার দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “নীতির সঙ্গে আপস করার চেয়ে কারাগারে মারা যাওয়া ভালো।”
তিন বছর ধরে কারাবন্দী ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ আনা হলেও তিনি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি, বিশেষ করে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাঁর ছেলেরা জানিয়েছেন, তিনি মানসিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
২০২২ সাল থেকে ইমরানের সঙ্গে তাঁর ছেলেরা দেখা করতে পারছেন না। তাঁরা এখনো পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসার জন্য অপেক্ষা করছেন। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছেলে সুলায়মান ইসা খান বলেন, “বাবা এর আগে বহুবার বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন। কয়েক বছর আগে তাঁকে গুলিও করা হয়েছিল। এসব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত হওয়া না গেলেও মানসিকভাবে শক্ত হয়ে ওঠা যায়।”
অন্য ছেলে কাসিম খান বলেন, কারাগারে বিভিন্ন কৌশলে ইমরান খানকে মানসিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর সেলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। তিনি নিয়মিত ধ্যান করেন এবং মানসিক শক্তি বজায় রাখছেন।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার, ইয়ান চ্যাপেল, গ্রেগ চ্যাপেল ও মাইকেল আথারটন। তবে ইমরান নিজে এ বিষয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার।
এদিকে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ইমরান অভিযোগ করেছেন, তাঁকে চাপে ফেলতে তাঁর স্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং তাঁকে প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়, সেটিও অনেক সময় কার্যকর হয় না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, ইমরান খান বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই দেশের বিচারকদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আমরা বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি, কিন্তু তারা নিজেদের স্বার্থে বিক্রি হয়ে গেছে। তারা জানে আমাকে ভাঙতে পারবে না, তাই আমার স্ত্রীকে লক্ষ্য করছে।”
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান বিশ্বকাপ জয় করে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
