তেহরানে পৌঁছেছে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব, ইরান করছে পর্যালোচনা
ডেস্ক রিপোর্ট :
তেহরানে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পৌঁছেছে এবং তা বর্তমানে ইরান পর্যালোচনা করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি বার্তা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে পৌঁছেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সোমবার সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে, তবে তিনি নিশ্চিত কোনো ঘোষণা দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, “মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব পেয়েছি এবং সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।” তিনি প্রস্তাবের বিস্তারিত বা বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি।
গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘বৈরিতা সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে নিরসনের বিষয়ে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১৫টি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তাঁরা শান্তি চান। তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মনে হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রাখি।”
সপ্তাহান্তে ইরানকে দেওয়া একটি আলটিমেটাম থেকেও ট্রাম্প সরে এসেছেন। ওই আলটিমেটামে বলা হয়েছিল, ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে হবে, নতুবা তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, চলমান আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে মার্কিন সামরিক বাহিনী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা স্থগিত রাখবে।
প্রাথমিকভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আলোচনা হচ্ছে বলে অস্বীকার করেছিল। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ২৩ দিন ধরে চলা সংঘাত সমাধানের দিকে এগোচ্ছে, এমন আশা তৈরি হয়েছে। এই খবরের পর সোমবার আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ কমে যায় এবং এসঅ্যান্ডপি-৫০০ সূচক ১.১৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ঐতিহাসিকভাবে তারা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করে থাকে, যেখানে অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। সিবিএস নিউজ জানায়, পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে। ওমানও দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে; চলতি বছরের শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনায়ও দেশটি ভূমিকা রাখে।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘একজন শীর্ষ কর্মকর্তার’ সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে নয়। তিনি ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান, কারণ “আমি চাই না তাঁকে হত্যা করা হোক।”
সম্ভাব্য কোনো চুক্তির কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেন, ইরান সম্মত হয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, যা যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল। আরেকটি লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আগ্রহ থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে চলতি বছরের শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরান যেন সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, যা তেহরান দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে ইসরায়েল থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করেছে। তবে কতটা ব্যাপকভাবে দেশটিকে লক্ষ্য করা হবে, তা নিয়ে দুই মিত্রের মধ্যে মাঝে মাঝে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, ইরানের একটি বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলায় তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন।
