বিসিএসে নিয়োগের সব ধাপ হবে সফটওয়্যারে

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২৯ March ২০২৬, ১০:১৫ AM | পঠিত: ৪৩ বার


পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অটোমেশন হচ্ছে
ফাঁস রোধে প্রশ্নপত্রে গোপন বারকোড যুক্ত হয়েছে
সফটওয়্যারেই নির্ধারণ করা হচ্ছে মৌখিক পরীক্ষার বোর্ড
পিএসসি সংস্কারে আইন সংশোধনসহ নানা পদক্ষেপ
রাহুল শর্মা, ঢাকা:
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অটোমেশনের (স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা) আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সরকারি এ গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রমের সব ধাপ একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পিএসসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বিসিএস নিয়োগের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অটোমেশনের আওতায় একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষার আবেদন থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হবে। এসব ধাপের মধ্যে রয়েছে—আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার হল ও আসন ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপ্রণেতা ও মডারেটর ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণ, কেন্দ্রে ও হলে প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ ব্যবস্থাপনা, ফল প্রক্রিয়াকরণ, মৌখিক পরীক্ষার বোর্ড গঠন ও নম্বর প্রদান ব্যবস্থাপনা এবং চূড়ান্ত ফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব ধাপের অটোমেশন হলে বিসিএসে নিয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া পরীক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও দ্রুত হবে। দ্রুত চূড়ান্ত ফলও প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম সম্প্রতি নিজ কার্যালয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পিএসসির পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অটোমেশন করার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
চেয়ারম্যান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিসিএসের প্রশ্নে বারকোড যুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ৪৮তম বিসিএস থেকে প্রতিটি প্রশ্নপত্রে একটি গোপন নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং কোন প্রশ্নপত্রটি কোন পরীক্ষাকেন্দ্রের কোন কক্ষে যাবে, তা-ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ থেকে প্রশ্ন ফাঁস হলে তা সহজেই শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
মৌখিক পরীক্ষার বোর্ড নির্ধারণেও সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম। তিনি বলেন, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী ও বোর্ড সদস্যদের নির্ধারণ করা হচ্ছে। এটি পিএসসিতে মৌখিক পরীক্ষা শুরুর আগে চাকরিপ্রার্থীরা মনিটরে দেখতে পাবেন।
বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস পর্যালোচনার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সিলেবাস যুগোপযোগী করার জন্য ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিগগির তা চূড়ান্ত করা হবে।’
পিএসসির সংস্কারেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন সদস্য আইন, ১৯৭৪ এবং বিসিএস বিধিমালা, ২০১৪ সংশোধন ও পরিমার্জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। কার কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা নিরূপণ করে সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পিএসসির বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করতে তা সংশোধনের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষায় কোনো জট নেই বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে দুটি বিসিএসের কার্যক্রম চলমান। এর মধ্যে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে। আর ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে।
উল্লেখ্য, গত বছর পাঁচটি বিসিএসের (৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৮ ও ৪৯) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এসব বিসিএসে ৮ হাজার ৭২৮ প্রার্থী ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৭৬ জন, ৪৫তম বিসিএসে ১ হাজার ৮০৭ জন, ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ৪৫৭ জন, ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএসে ৩ হাজার ১২০ জন এবং ৪৯তম (বিশেষ) বিসিএসে ৬৬৮ জন রয়েছেন।
রিপিট ক্যাডার (এক প্রার্থী একাধিক বিসিএসে সুপারিশ পাওয়া) কমাতেও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, প্রার্থীদের অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দেওয়ার কারণেই এ সমস্যা তৈরি হয়। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে রিপিট ক্যাডার থাকবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।