চট্টগ্রামে অপহরন মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যতা পায়নি পিবিআই -
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে করা অপহরণচেষ্টা, হামলা ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মামলার অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে সংস্থাটি আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলেছে, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে নগরের মোহরা সায়রা খাতুন কাদেরিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাসিনা মমতাজ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত পরে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে।
তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, মামলার বাদী অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলাকালে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তাকে চারবার নোটিশ দিয়ে হাজির হতে বলা হলেও তিনি উপস্থিত হননি। এমনকি তার বাসায় গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি পরে তথ্য দেবেন বলে জানিয়ে আর কোনো সাড়া দেননি।
তিনি আরও জানান, মামলায় বাদী যেসব সাক্ষীর নাম-ঠিকানা উল্লেখ করেছিলেন, তদন্তে তাদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে রোববার (৮ মার্চ)।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনার সময় সাংবাদিকরা প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেননি। বরং শিক্ষার্থীদের মারধর করে আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে তুলে দেন এবং উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এই মামলায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর মা ও চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৮ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়। পাশাপাশি যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল আজিম রনি ও আরও অনেক নেতা-কর্মীর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে মামলার বাদী হাসিনা মমতাজ বলেন, পিবিআইয়ের দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
