ইরান ইস্যুতে যুদ্ধচাপ বাড়ছে: ইজরায়েলের রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র
ডেস্ক রিপোর্ট :
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্যে বড় ধরনের ফাটলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দখলদার রাষ্ট্রটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন—দেশটি একটি “নিরাপত্তা বিপর্যয়ের” দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের ২৭তম দিনে এক টেলিভিশন বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি ইসরায়েলের নাগরিকদের সতর্ক করতে চাই। আমরা আরেকটি নিরাপত্তা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছি।”
লাপিদ অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের সক্ষমতার সীমার বাইরে কাজ করছে এবং সরকার যথাযথ কৌশল ও সরঞ্জাম ছাড়াই সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে। তার মতে, সেনাসংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
এই মন্তব্য আসে সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির-এর ফাঁস হওয়া এক বক্তব্যের পর। সেখানে তিনি বলেন, আইডিএফ “ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে” এবং একাধিক “লাল সংকেত” দেখা যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন, রিজার্ভ সেনারা আর টিকে থাকতে পারবে না এবং জরুরি ভিত্তিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন প্রয়োজন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। অতি-কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তিনি এখনো সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা আইন বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখাচ্ছেন। যদিও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পাসওভার ছুটির পর এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট-ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার কোথাও জিতছে না—লেবাননেও নয়, গাজাতেও নয়।” তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য, কিন্তু এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়ে গেছে।
অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট এবং নেতা ইয়ার গোলান সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও সৈন্য সংকটের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফি ডেফরিন জানান, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা জোরদারে আরও যোদ্ধা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতাও আরও তীব্র হতে পারে—যা ইসরায়েলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
