যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আতঙ্ক: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, সীমিত তেল বিক্রি-

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ০৭ March ২০২৬, ০৯:২৭ PM | পঠিত: ১১ বার

ডেস্ক রিপোর্ট  :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি খাতে। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে ভিড় করছেন যানবাহনের চালকেরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় শনিবার ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক জায়গায় তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকেরা।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার এবং মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে তেলের ঘাটতি নেই বলে আশ্বস্ত করা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কমছে না। অনেকেই ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় আগাম তেল সংগ্রহ করছেন। ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পেট্রল পাম্পগুলোতে যানবাহনের চার থেকে পাঁচ স্তরের লাইন পর্যন্ত দেখা গেছে। কোনো কোনো মোটরসাইকেল চালককে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করে সীমিত পরিমাণ তেল নিতে দেখা গেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে তেলের কোনো সংকট নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সাময়িকভাবে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে পৌঁছাবে।
এদিকে বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। রাজশাহীতে একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হয়।
যশোরে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অনেক পাম্প আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, গত তিন দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি চাহিদা দেখা দিয়েছে।
মৌলভীবাজারে অতিরিক্ত দামে পেট্রল ও অকটেন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও লিটারপ্রতি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অন্যদিকে কুড়িগ্রামে জেরিকেন ও ড্রামে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখায় বোরো মৌসুমে সেচের জন্য তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেক কৃষক তেলচালিত সেচপাম্প চালাতে না পেরে চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতা না কমলে সাময়িক এই সংকট আরও বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।