ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ৩০ March ২০২৬, ০৪:৩০ PM | পঠিত: ৪২ বার

বাসস, ঢাকা
ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম শারীরিক প্রতিবন্ধীরাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএম অফিস
শারীরিক প্রতিবন্ধী যাঁরা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম, তাঁদেরও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় আনবে সরকার। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীরচর্চার বিষয় নয়; বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।”
খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয়; বরং জয়েরই একটি অংশ—এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “আলবার্ট আইনস্টাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে কখনো কিছু করেইনি।”
সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যাঁরা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তাঁরা যাতে তাঁদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন—এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় না ভোগেন—সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।”
তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।”
আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “১৪ এপ্রিল থেকে ফার্মার্স কার্ড বা কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু হবে। এভাবেই দেশ ও জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’।”
তিনি আরও বলেন, “শারীরিক প্রতিবন্ধী যাঁরা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম, তাঁরাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’—এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য দেশে-বিদেশে সব ধরনের সুবিধা প্রদানে উদ্যোগ নিয়েছে।”
ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য অর্জন করে বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গনে বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করুন।”
তিনি আরও বলেন, “দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যের পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।”
ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। তবে এর পাশাপাশি আর্চারি, বক্সিং, যোগব্যায়াম, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারাম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল ও ব্যাডমিন্টনের মতো খেলাগুলোকেও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহী ছেলে-মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে সুযোগ পায়, সে জন্য শিক্ষা কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নিয়ে দক্ষ হয়ে উঠুক।” শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু করেছে।
দেশব্যাপী নতুনভাবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ আবার চালু হয়েছে। এবার নতুন আঙ্গিকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে শুরু হয়ে সারা দেশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হবে।”
অনুষ্ঠানে ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা করে পৌঁছে যায়। এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।