মহান স্বাধীনতা দিবস-বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন : জাতির আত্মপরিচয়

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২৬ March ২০২৬, ০২:০২ PM | পঠিত: ৬৫ বার

গাজী তুষার আহমেদ :
আজ ২৬ মার্চ, ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অমর অধ্যায়ের সূচনার দিন, যখন প্রিয় মাতৃভূমিকে পাকিস্তানি শোষণ থেকে মুক্ত করার ডাক দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য গৌরবময় ইতিহাসের সূচনা, যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা দেশের সর্বত্র পৌঁছায়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে পাকিস্তানি সেনাদের গ্রেপ্তারের আগ মুহূর্তে তিনি দেশবাসীকে নির্দেশ দেন শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে লড়াই করতে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার দামাল ছেলে-মেয়েরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৯ মাসের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। জাতি পায় নিজস্ব দেশ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য ছিল। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্তির পর পাকিস্তান ও ভারতের জন্ম হয়। কিন্তু বাঙালিদের ওপর নতুনভাবে শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খল নেমে আসে। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা, ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়ন আন্দোলন, ১৯৫৮ সালের মার্শাল আইন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা—এই সমস্ত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠন হয়, যেখানে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হন। এই সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে।
মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে বাঙালি জাতি অসামান্য ত্যাগ ও সাহস প্রদর্শন করে। একই সঙ্গে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজের কলঙ্কিত অধ্যায়ও ইতিহাসে স্থান পায়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
আজ মহান স্বাধীনতার দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের। তবে স্বাধীনতার এই অর্জন আজও ঝুঁকির মধ্যে। রাজাকারদের দাপট, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাঙা, ৭ মার্চের ভাষণ প্রদর্শনের জন্য কারাবাস—এই সব আমাদের লজ্জিত করে। এই অন্ধকার সময়ে আমাদের আলোর মশাল হাতে এগিয়ে যেতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অম্লান রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের সবচেয়ে বড় কর্তব্য।
আজ স্বাধীনতার উৎসবের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি আবারও প্রত্যয়বদ্ধ হয়—ভালবাসা, ঐক্য ও ত্যাগের মাধ্যমে মুক্তির চেতনাকে জীবন্ত রাখতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশকে আমরা সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখব, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও জানতে পারে, ২৬ মার্চ কেবল একটি দিন নয়, বরং বাঙালি জাতির অহংকার ও চিরন্তন মুক্তির প্রতীক।
তথ্যসূত্র: ৭১ এর ডায়েরী-

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।