মতিঝিল–কমলাপুর মেট্রোরেল: ৭২.০৯% অগ্রগতি, পূর্ণাঙ্গ চালুর অপেক্ষায় নগরবাসী

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২৯ March ২০২৬, ০৯:৫৮ AM | পঠিত: ৪১ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার যানজট, দূষণ ও সময় অপচয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে গৃহীত বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল অন্যতম। ইতোমধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হওয়ায় নগরবাসীর যাতায়াতে এসেছে স্বস্তি। তবে বহুল প্রতীক্ষিত মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশ চালু হলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মতিঝিল-কমলাপুর অংশের সার্বিক অগ্রগতি বর্তমানে ৭২ দশমিক ০৯ শতাংশ। উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল অংশের বাস্তব অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। এই অংশ চালু হলে শুধু যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং দেশের প্রধান রেলস্টেশন কমলাপুরের সঙ্গে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। ফলে প্রতিদিনের দীর্ঘ যানজট, অপরিকল্পিত পার্কিং ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেট্রোরেল একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা, যা একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে এবং সড়কের ওপর চাপ হ্রাস পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বায়ুদূষণও কমবে।
প্রকল্পটি মোট ৮টি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্যাকেজ-১ (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) ২০১৮ সালে নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর অগ্রগতি ১০০ শতাংশ। প্যাকেজ-২ (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) ২০২২ সালে শেষ হয়েছে, যার অগ্রগতি ১০০ শতাংশ। প্যাকেজ-৩ ও ৪ (উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১.৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ) ২০২২ সালের নভেম্বরেই সম্পন্ন হয়েছে।
মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১.১৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও একটি স্টেশন নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান। এ পর্যন্ত সকল পাইলক্যাপ, পিয়ার ও স্টেশন কলাম নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের সবগুলোই তৈরি হয়েছে এবং ২৭টি স্প্যানের মধ্যে ২৫টির উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কনকোর্স ছাদ, ট্র্যাক স্ল্যাব ও প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাবের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্টিল রুফ স্ট্রাকচারের ৫৩৩ টনের মধ্যে ৪৯৯ টন ইরেকশন শেষ হয়েছে। কনকোর্স লেভেলের ২৮০০ বর্গমিটার ব্রিক ওয়াল ও প্লাস্টার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবে আর্কিটেকচারাল ও এন্টি-এক্সিট কাজ এখনও চলমান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমলাপুর স্টেশনটি হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। মেট্রোরেলের সঙ্গে এই সংযোগ স্থাপন হলে যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে যানজটের ভোগান্তিতে ক্লান্ত। তারা দ্রুত কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর দাবি জানাচ্ছেন। ইতোমধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং মতিঝিল পর্যন্ত চালু হওয়া সেবা নগর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তবে পুরো রুট চালু না হওয়ায় এখনও প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী বেলায়েত হোসেন বলেন, তিনি প্রতিদিন কমলাপুর থেকে আগারগাঁও যাতায়াত করেন। আগে যেখানে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগত, এখন সময় অনেক কমেছে। তবে মতিঝিল-কমলাপুর অংশ চালু হলে তিনি সরাসরি বাসায় ফিরতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে টেকসই উন্নয়নের জন্য আধুনিক গণপরিবহন অত্যন্ত জরুরি। মেট্রোরেল শুধু একটি পরিবহন ব্যবস্থা নয়, এটি মানুষের জীবনধারায় পরিবর্তন আনে। সময় সাশ্রয় করে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনে এবং শহরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি-৬ পুরোপুরি চালু হওয়া শুধু একটি প্রকল্পের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ঢাকার নাগরিক জীবনে এক নতুন যুগের সূচনা করবে—এমনটাই প্রত্যাশা 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।