প্রথম মুসলিম নার্স: নবীর কাছে যোদ্ধার মর্যাদা পাওয়া রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২২ March ২০২৬, ১০:২৮ AM | পঠিত: ১৩ বার

 ডেস্ক রিপোর্ট:
রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া—ইসলামের ইতিহাসে যাকে নার্সিংয়ের স্থপতি বলা হয়, তিনি শুধু একজন সেবিকা নন; বরং মানবসেবায় নিবেদিত এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সপ্তম শতকে যখন প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি, তখন তিনি অসুস্থ ও আহতদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় মসজিদে নববী-এর আঙ্গিনায় একটি সাধারণ তাঁবু স্থাপন করে তিনি রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা দিতেন। মাটির দেয়াল, খেজুর গাছের গুঁড়ি ও পাতা দিয়ে তৈরি সেই অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রেই চলত তার কার্যক্রম।
আহতদের ক্ষত পরিষ্কার করা, ব্যান্ডেজ করা থেকে শুরু করে মানসিকভাবে সাহস জোগানো—সবই করতেন তিনি। তার সেবার বিশেষত্ব ছিল মমতা ও সহমর্মিতা, যা রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা জোগাত।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি খাজরাজ গোত্রের বনু আসলাম শাখার সদস্য ছিলেন এবং ৫৯৭ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইয়াসরিব শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে এই ইয়াসরিবই মদিনা নামে পরিচিতি লাভ করে।
তার বাবা সাদ আল-আসলামি ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সার্জন। বাবার সহকারী হিসেবে কাজ করতে করতেই রুফাইদাহ চিকিৎসা ও সেবাশুশ্রূষায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি নার্সিংকে একটি সুশৃঙ্খল ও মানবিক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ইসলামের ইতিহাসে রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়ার অবদান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, তাকে কেবল প্রথম মুসলিম নার্সই নয়, বরং মানবতার সেবায় এক অগ্রদূত হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।