প্রতিবেশীদের উচ্ছেদের অভিযোগে বিতর্কে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর-
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান–এর বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিবেশীদের উচ্ছেদ করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে নতুন রাস্তার কোনো প্রয়োজন ছিল না; তবুও প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪০২ মিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীনগর উপজেলার ষোলোঘর ইউনিয়নএর ভূঁইয়াপাড়া এলাকায় আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ি অবস্থিত। যদিও বর্তমানে সেখানে তার পরিবারের কেউ বসবাস করেন না। স্থানীয়দের দাবি, ষোলোঘর বাসস্ট্যান্ড থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত আগে থেকেই প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত একটি ভালো রাস্তা ছিল।
তাদের অভিযোগ, নিজ বাড়িতে যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে প্রতিবেশীদের ঘরবাড়ি ভেঙে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কিছু জায়গাকে লিজ সম্পত্তি দেখিয়ে সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে সংবাদ প্রকাশের পর সেই সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি তাদের।
ভুক্তভোগী প্রতিবেশী রুবেল বলেন, “আগের রাস্তা ১০ ফুট হলেও তার বাড়িতে ঢোকার জন্য প্রায় ১৭ ফুট প্রশস্ত রাস্তা করা হয়েছে। আমার ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে সেখানে লিজ সম্পত্তির সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। পরে আবার তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তাদের পৈতৃক বসতবাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ বা ভর্তুকি না পাওয়ার কথাও জানান তারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত একটি রাস্তা সেখানে আগে থেকেই ছিল। তার মতে, নতুন রাস্তার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
রাস্তা নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিও কনস্ট্রাকশন–এর কর্ণধার সাইফুর রহমান বলেন, “১২ ফুট অনুমোদনে কাজ শুরু হলেও পরে গাড়ি চলাচলের সুবিধার জন্য কিছু অংশে রাস্তার প্রস্থ ১৬ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এটি প্রকল্প পরিচালক ও জেলা প্রশাসনের তদারকিতে করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলাম জানান, তারা শুধু কাজটি তদারকি করেছেন। বিস্তারিত বিষয়ে জেলা প্রকৌশলী ভালো বলতে পারবেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, জেলা প্রশাসক, মুন্সীগঞ্জ জেলা–এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন এবং পরে এ বিষয়ে জানানো হবে।
অন্যদিকে আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
