রমজানের শেষ দশক: লাইলাতুল কদরের সন্ধানে মুমিনদের বিশেষ আমল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরকতময় পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে প্রবেশ করেছে মুসলিম বিশ্ব। এই সময়েই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যে রজনী হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “এ রাতেই প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়।”
ইসলামি সূত্রে জানা যায়, পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল এই বরকতময় রজনীতেই। তাই মুসলমানদের কাছে লাইলাতুল কদর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি রাত।
হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইবাদতে বিশেষ মনোযোগ দিতেন। উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, এ সময় নবীজি সারারাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারকেও জাগিয়ে দিতেন।
তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান করতে। অনেক মুসলমান এ সময় মসজিদে ইতিকাফ পালন করেন এবং বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করেন।
প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম গাজালি বলেছেন, রমজান মাসে একজন মুসলমানের উচিত নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করা, আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করা।
লাইলাতুল কদরের জন্য বিশেষ একটি দোয়া শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। দোয়াটি হলো—
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।”
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মনে করেন, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং গুনাহ মাফের সুযোগ রয়েছে। তাই এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।
