আত্মীয়দের মধ্যে কাদের জাকাত দেওয়া যাবে, কাদের দেওয়া যাবে না —

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২৮ February ২০২৬, ১০:২২ AM | পঠিত: ১৯ বার

গাজী তুষার আহমেদ :
 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জাকাত গ্রহণের জন্য আট শ্রেণীর মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয় সদকা (জাকাত) হলো ফকির, মিসকিন, জাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয়, দাসমুক্তির ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত।”
— (সুরা তওবা: ৬০)
জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ৮ শ্রেণী
১. ফকির – যার কিছুই নেই।
২. মিসকিন – যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।
৩. জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী।
৪. নওমুসলিম – আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে যাদের অন্তর স্থির করা প্রয়োজন।
৫. দাসমুক্তির ক্ষেত্রে।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।
৭. আল্লাহর পথে নিয়োজিত ব্যক্তি।
৮. মুসাফির – ভ্রমণকালে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়া ব্যক্তি।
যাদের জাকাত দেওয়া যাবে না (৩ শ্রেণী)
১. উর্ধ্বতন আত্মীয় – বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ইত্যাদি।
২. অধস্তন আত্মীয় – সন্তান, নাতি-নাতনি ইত্যাদি।
৩. স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে।
এদের কেউ অভাবগ্রস্ত হলে জাকাত নয়, নিজের সাধারণ সম্পদ থেকে সাহায্য করা দায়িত্ব।
যাদের জাকাত দেওয়া যায়
ভাই-বোন, চাচা-চাচি, মামা-মামি, খালা-খালু, ফুফু-ফুফা, শ্বশুর-শাশুড়ি প্রমুখ আত্মীয় যদি জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে তাদের জাকাত দেওয়া যাবে।
হাদিসে এসেছে,
“অভাবীকে সদকা দিলে তা শুধু সদকা; আর আত্মীয়কে দিলে তা সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায়—দুই সওয়াব।”
— (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৭৯৪, সুনানে নাসাঈ: ২৫৮২)
জাকাতের হিসাব যেভাবে করবেন
যদি কারও কাছে এক বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত—
৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ অথবা
৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য অথবা
সমমূল্যের নগদ অর্থ/ব্যবসায়িক সম্পদ থাকে,
তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে।
হিসাব: মোট সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ (২.৫%) জাকাত দিতে হবে।
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বছর গণনা করা উত্তম। অনেকেই রমজানে হিসাব করে থাকেন।
✨ গুরুত্বপূর্ণ কথা
জাকাত শুধু দান নয়, এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি ফরজ ইবাদত। সঠিকভাবে হিসাব করে উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেক সম্পদশালী মুসলমানের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে জাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।