স্যামসনের বদলে যাওয়ার নেপথ্যে শচীন-
ক্রীড়া ডেস্ক:
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, হতাশা আর অনিশ্চয়তার গল্প পেছনে ফেলে অবশেষে নিজের স্বপ্নের শিখরে পৌঁছালেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান Sanju Samson। ২০২৬ সালের ICC Men\'s T20 World Cup–এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে তিনি যেন নতুন এক স্যামসনের জন্ম দিলেন ক্রিকেট বিশ্বকে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ২০১৫ সালে। কিন্তু এক দশকের বেশি সময় পার করেও নিয়মিত একাদশে জায়গা পাকা করতে পারেননি তিনি। সুযোগ এসেছে, আবার হারিয়েও গেছে। কখনো ফর্মহীনতা, কখনো দল নির্বাচনের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে স্যামসনের ক্যারিয়ার যেন ছিল ওঠানামার গল্পে ভরা। অনেক সময় মনে হয়েছিল, বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ হয়তো আর মিলবে না।
কিন্তু এবারের বিশ্বকাপেই বদলে যায় সবকিছু। মাত্র পাঁচ ম্যাচে ৩২১ রান করে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান। ৮০.২৫ গড় আর প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে প্রতিপক্ষ বোলারদের রীতিমতো দিশেহারা করে দেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস ভারতকে সেমিফাইনালে তুলেছিল, আর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ধারাবাহিক দুইটি ৮৯ রানের ইনিংস ভারতের শিরোপা জয়ের পথ মসৃণ করে।
তবে এই বদলে যাওয়ার গল্পের পেছনে রয়েছে আরেক কিংবদন্তির ছোঁয়া। ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি Sachin Tendulkar–এর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও পরামর্শই স্যামসনের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। কঠিন সময়ে শচীনের দেওয়া মানসিক শক্তি ও দিকনির্দেশনা তাকে নতুন করে লড়াই করার সাহস জুগিয়েছে।
ফাইনাল শেষে স্যামসন নিজেই স্বীকার করেছেন, একসময় তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজে ব্যর্থতার পর মনে হয়েছিল তার স্বপ্নগুলো বুঝি শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর বিশ্বাসের শক্তিতে সেই স্বপ্নই আজ বাস্তব।
ফলাফল—ভারতের আরেকটি বিশ্বজয়, আর ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন নায়কের আবির্ভাব।
