তেলকে ‘অস্ত্র’ বানিয়ে পশ্চিমাদের চাপে ফেলতে চাইছে ইরান-

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ১১ March ২০২৬, ১০:৫৯ AM | পঠিত: ১৪ বার

ডেস্ক রিপোর্ট :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে ইরান।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। গত সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে পৌঁছে যায়। তবে জি৭ দেশগুলোর বাজার স্থিতিশীল রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর মঙ্গলবার তা কমে প্রায় ৮৫ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না হলে এই দাম আবারও বাড়তে পারে।
ইরানের হুমকির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর রাস তানুরা শোধনাগার, কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ ও মুসাফ্ফাহ তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু স্থাপনায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের সমুদ্রবর্তী গ্যাসক্ষেত্র লেভিয়াথান ও তামার নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ওমানের দুকম ও সালালাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে “এক লিটার তেলও” রপ্তানি হবে না। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে ইরানকে আরও শক্তিশালী সামরিক হামলার মুখে পড়তে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ধারণা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা আরও জোরদার করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ড্রোন তৈরির কারখানাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে তেহরান, ইসফাহান, তাবরিজ ও আহভাজসহ বিভিন্ন শহরে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবিও করেছে তারা। ইরানের দাবি, এসব হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।