মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তি বাড়াতে ৩৫০০ মেরিন মোতায়েন: ইরানের হুঁশিয়ারি—“ফিরবে কফিনে”

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২৯ March ২০২৬, ১০:২০ AM | পঠিত: ৫০ বার

ডেস্ক রিপোর্ট :
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘন হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন মেরিন ও নাবিক ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে—যা গত দুই দশকের মধ্যে অন্যতম বড় সেনা সমাবেশ।
সেন্টকমের তথ্যমতে, অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস ত্রিপোলি-তে করে এই বিপুল সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। জাহাজটিতে থাকা মেরিনরা এখন মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যোগ দিচ্ছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, “ত্রিপোলিতে থাকা মার্কিন নাবিক ও মেরিনরা ২৭ মার্চ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছেছে।” প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধসজ্জায় প্রস্তুত সেনারা হেলমেট, গগলস ও কমব্যাট পোশাকে সজ্জিত।
শুধু ত্রিপোলিই নয়—অন্য অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস বক্সার-সহ আরও জাহাজ ও একটি মেরিন ইউনিটকে সান ডিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রতিরক্ষামূলক মোতায়েন নয়, বরং সম্ভাব্য বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত।
এই পদক্ষেপ ঘিরে জল্পনা তীব্র—ওয়াশিংটন কি ইরানের ভেতরে স্থল অভিযানের পথে হাঁটছে? যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, তিনি সরাসরি স্থলযুদ্ধে যেতে চান না, তবুও বাড়তি সেনা মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলছে।
মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ট্রাম্পকে “বেশি সামরিক বিকল্প” দিতেই করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বাহিনীকে ইরানের মূল ভূখণ্ড কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ-এর কাছাকাছি আক্রমণাত্মক অবস্থানে রাখা হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। দেশটির ইংরেজি দৈনিক তেহরান টাইমস প্রথম পাতায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছে—“Welcome to Hell” (জাহান্নামে স্বাগতম)। বার্তাটি পরিষ্কার: কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে তারা “কফিনবন্দি হয়েই ফিরবে”।
বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিমুখী উত্তেজনায় পুরো অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা হলেও বাস্তবে দুই পক্ষই শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া। ফলে পরিস্থিতি যে কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক সমাবেশ কেবল একটি বার্তা নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যে এক সম্ভাব্য বড় সংঘাতের পূর্বাভাস। এখন প্রশ্ন একটাই: কূটনীতি জিতবে, নাকি যুদ্ধ?

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।