আমি সাংবাদিক না, মানুষের কথা বলতেই ক্যামেরা ধরি-তাইজুল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই মোবাইল হাতে ভিডিও করেন তিনি। সেই সাধারণ ভিডিওই এখন তাকে এনে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি। তবে ভাইরাল হলেও নিজেকে সাংবাদিক বলতে নারাজ তাইজুল ইসলাম (৩০)। তার ভাষায়, “আমি সাংবাদিক না, আমি শুধু মানুষের কথা বলি।”
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম সম্প্রতি একটি ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তিনি একটি দোকানে গিয়ে সরল ভাষায় জিলাপির দাম জানতে চাইছেন।
তিনি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম।” তার এই সোজাসাপ্টা উপস্থাপনাই মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার সরলতা ও বাস্তবধর্মী কথাবার্তাকে প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ কেউ তাকে ব্যঙ্গ করে ট্রোলও করছেন। তবে এসব সমালোচনায় বিচলিত নন তাইজুল।
তাইজুল ইসলাম বলেন, “আমার বাবা-মা অসুস্থ, তারা শ্রবণপ্রতিবন্ধী। সংসারের দায়িত্ব আমার ওপর। ঢাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ভিডিও করি, যাতে একটু ভালো লাগে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা আমাদের এলাকার খবর করে না। তাই আমি নিজের মতো করে ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। মানুষ আমাকে নিয়ে হাসলে আমার কষ্ট নাই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”
ছয় ভাইবোনের মধ্যে বড় তাইজুল। তার বাবা সিরাজুল ইসলাম ও মা তাহেরা বেগম। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কাজ করলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজের ফাঁকে ফাঁকেই তিনি ভিডিও তৈরি করেন।
স্থানীয় নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ছেলেটির বাড়ি আমার পরিষদের সামনে। তবে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন শুনলাম সে ভিডিও করে পরিচিতি পেয়েছে।”
সাধারণ মানুষের ভাষায় সাধারণ বিষয় তুলে ধরেই ভাইরাল হওয়া তাইজুল এখন এক নতুন আলোচনার নাম। ট্রোল-সমালোচনার বাইরে গিয়ে তার এই প্রচেষ্টা অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে বাস্তবতার এক সরল প্রতিচ্ছবি।
