২৩ মার্চ ১৯৭১—৩২ নম্বরে পতাকা উড়ান বঙ্গবন্ধু -
গাজী তুষার আহমেদ :
ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ এক অনন্য দিন। নাম ছিল ‘পাকিস্তান দিবস’, কিন্তু বাস্তবে এদিন বাঙালি জাতি সেই পরিচয়কে অস্বীকার করে নিজেদের নতুন পরিচয় গড়ে তোলার পথে হাঁটে। এটি ছিল নিঃশব্দ বিপ্লবের দিন—যেখানে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই স্বাধীনতার মানসিক ভিত্তি স্থাপন হয়।
মার্চের শুরু থেকেই পূর্ববাংলা উত্তাল ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন—২৩ মার্চ আর পাকিস্তান দিবস নয়, এটি হবে প্রতিরোধের দিন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নামে।
ভোর হতেই ঢাকার রাস্তায় নেমে আসে ছাত্র-জনতা। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে প্রভাতফেরি গিয়ে থামে আজিমপুর কবরস্থানে, ভাষা শহীদদের প্রতি জানানো হয় গভীর শ্রদ্ধা। এরপর শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে নতুন করে শপথ নেয় তরুণ প্রজন্ম—মুক্তির শপথ।
এরপর শুরু হয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য—লাল-সবুজের পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো ঢাকা। সচিবালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, এমনকি সাধারণ মানুষের ঘরেও উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার পতাকা। পাশাপাশি কালো পতাকা জানিয়ে দেয় প্রতিবাদের ভাষা। রাজধানীর এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে, এমনকি গ্রামাঞ্চলেও।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ছিল জনতার ঢল। সেখানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন—বাংলার অধিকার আদায়ে কোনো আপস নয়। সত্যিই, সেই মুহূর্তে একজন মুজিব যেন পুরো বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক জগতও ছিল সমান সক্রিয়। গান, কবিতা ও নাটকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীনতার চেতনা। ঢাকা টেলিভিশনের বাঙালি কর্মীরা পাকিস্তানি অনুষ্ঠান প্রচার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ প্রচার করেন—যা ছিল সাহসী প্রতিরোধের প্রতীক।
পল্টন ময়দানে কুচকাওয়াজ ও যুদ্ধ প্রস্তুতির মহড়া, জয় বাংলা বাহিনীর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আন্দোলন প্রয়োজনে সশস্ত্র রূপও নিতে পারে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই অংশ নেয়, যা প্রমাণ করে—এটি ছিল একটি জাতির সম্মিলিত সংগ্রাম।
অন্যদিকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সীমিত কিছু স্থানে কড়া নিরাপত্তায় নিজেদের পতাকা উত্তোলন করলেও দেশের বাস্তবতা তখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
২৩ মার্চের সবচেয়ে বড় সত্য—এদিন কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করলেও বাঙালি জাতি মনে মনে স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল। এটি শুধু একটি দিন নয়, এটি ছিল আত্মপরিচয়, ঐক্য ও মুক্তির চূড়ান্ত মানসিক প্রস্তুতির দিন।
#allfriendsandfollowers #viralnews #vairalreelsfb #allflowers #ডিইউজে #ডিআরইউ #২৫মার্চ
