ঢাবির হলে তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা-

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ১০ March ২০২৬, ০৮:৪২ PM | পঠিত: ১৬ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। এদের মধ্যে ২২ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান (ইয়াম), ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন (শাফি), আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
এদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে আছেন। বাকি ২২ জন পলাতক রয়েছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন তোফাজ্জল হোসেন। এ সময় কয়েকজন ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যায়। মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে তারা তাকে চর-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজের নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করা হলেও তাকে ছেড়ে না দিয়ে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে কয়েকজন ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান, যেখানে ২১ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।
তবে তদন্ত সঠিকভাবে হয়নি দাবি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেন।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম নতুন করে তদন্ত শেষে গত ১৫ ডিসেম্বর আরও সাতজনকে যুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এখন আদালত সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।