ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ১৮ March ২০২৬, ১১:৫৯ PM | পঠিত: ১১ বার

ডেস্ক রিপোর্ট:
আসন্ন ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশের গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির এক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাস-মিনিবাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে এই অনিয়ম শুরু হয়েছে এবং ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভাড়ার পরিমাণ বাড়ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এবারের ঈদে প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাসে এবং আরও প্রায় ৬০ লাখ যাত্রী সিটি বাসে যাতায়াত করতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন রুটে ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন—ঢাকা থেকে পাবনা, নাটোর, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যের পরিবর্তে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, পরিবহন মালিকদের বাড়তি মুনাফা অর্জন, ঈদকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ না করাসহ নানা কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, দূরপাল্লার যাত্রীরা গড়ে প্রতি টিকিটে প্রায় ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত দিচ্ছেন, যা মোটে প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়াতে পারে। এছাড়া সিটি বাসে অতিরিক্ত ভাড়ার পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণপরিবহনে ডিজিটাল লেনদেন চালু, নগদ লেনদেন বন্ধ, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।