ইরানের হুঁশিয়ারি—বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত
ডেস্ক রিপোর্ট :
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র বা অবকাঠামোতে আঘাত হানা হলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও তেল স্থাপনাগুলো “অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস” করা হবে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে।
ইরান পাল্টা জানায়, তাদের স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামো, এমনকি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোও আঘাতের শিকার হবে। ইতিমধ্যে ইরান দাবি করেছে, শত্রুপক্ষের জাহাজ ছাড়া অন্য সব নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
এদিকে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানবিরোধী পদক্ষেপে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধ বন্ধের উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন ও আরও বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে।
