উপসাগরে উত্তেজনা তীব্র: ইরানের হামলায় ‘রেড লাইন’ অতিক্রম, জবাবের ইঙ্গিত জিসিসির
ডেস্ক নিউজ
ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আরব দেশগুলোর দাবি, এই হামলার মাধ্যমে ইরান সব ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে। ফলে পাল্টা জবাবের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান আরব প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কিছু বেসামরিক এলাকা ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা জবাবহীন থাকবে না। তার ভাষায়, “সব পথই খোলা আছে।”
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর ছয় সদস্য—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—জরুরি বৈঠকে সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশল উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে হতে পারে। তবে এর ফলে ওই দেশগুলো আরও বেশি করে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ হতে পারে এবং পরিস্থিতি সরাসরি সংঘাতে গড়াতে পারে।
এখন পর্যন্ত আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। তবে চলমান পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হয়, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও পর্যটন খাত নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
সূত্র :বিবিসি
