জাপান সাগরের দিকে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল উত্তর কোরিয়া

HURMAT ALI বাংলাদেশ
প্রকাশ: ১৫ March ২০২৬, ০৭:৫৮ PM | পঠিত: ১১ বার

ডেস্ক রিপোর্ট :
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এর মধ্যেই জাপান সাগরের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার সুনান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পূর্ব সাগর অর্থাৎ জাপান সাগরের দিকে ধাবিত হয়।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত সোমবার থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বার্ষিক বসন্তকালীন যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করেছে। আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছেন।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন–এর বোন কিম ইয়ো-জং গত সপ্তাহেই সতর্ক করে বলেন, এই সামরিক মহড়া ‘অকল্পনীয় ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এপ্রিলে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় এই বৈঠক হতে পারে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কিম জং-উনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি ‘শতভাগ প্রস্তুত’। যদিও এত দিন আলোচনার প্রস্তাব এড়িয়ে গিয়েছিল পিয়ংইয়ং, সম্প্রতি কিম জং-উন কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান স্বীকার করে নেয়, তবে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। সিউলকে ‘প্রধান শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করে কিম জং-উন বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়াকে তিনি আর একই জাতির অংশ হিসেবে মনে করেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আবারও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।