পাকিস্তানে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি: ইরানে হামলার প্রতিবাদে নিহত ২০
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরে পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রোববার শুরু হওয়া এসব ঘটনায় সর্বশেষ খবর অনুযায়ী দেশব্যাপী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
বিক্ষোভকারীদের বড় অংশ রাজধানী ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকায় জড়ো হয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামাবাদের সরকারি পলি ক্লিনিকে অন্তত দুইজনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে এবং ৩৫ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বন্দরনগরী করাচিতে। মাই কোলাচি সড়কে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হন। একপর্যায়ে কিছু যুবক কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। করাচিতে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সার্জন।
উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। স্কার্দু শহরে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করলে অন্তত ৮ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া লাহোর, পেশোয়ার, মুলতান ও ফয়সালাবাদেও বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বড় সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
