প্রাকৃতিক দুর্গ ইরান: স্থল অভিযানে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র
ডেস্ক রিপোর্ট :
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক শক্তি যতই শক্তিশালী হোক, সরাসরি স্থল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র–এর জন্য ইরান জয় করা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, বিশাল আয়তন এবং জটিল ভূপ্রকৃতির কারণে ইরানকে অনেক বিশেষজ্ঞই “প্রাকৃতিক দুর্গ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ও সোভিয়েত বাহিনী একযোগে আক্রমণ চালিয়ে ইরান দখল করেছিল। তবে এরপর আর কখনো দেশটিকে সামরিকভাবে পরাজিত করা যায়নি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও বিশ্লেষকদের মতে ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনা করা সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ভূপ্রকৃতি আক্রমণকারী বাহিনীর জন্য বড় বাধা। দেশটিতে বিস্তৃত মরুভূমি, জলাভূমি ও দুর্গম পর্বতমালা রয়েছে, যা পুরো ভূখণ্ডকে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত করেছে। রাজধানী তেহরান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত, যা সামরিক অভিযানে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ইরানের তিনটি প্রধান পর্বতমালা—জাগরোস পর্বতমালা, আলবুর্জ পর্বতমালা এবং মাকরান পর্বতমালা—দেশটির বড় অংশজুড়ে বিস্তৃত। এই দুর্গম এলাকায় অনেক সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনা ছড়িয়ে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
কৌশলগত দিক থেকেও ইরানের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি–এর ওপর প্রভাব থাকায় দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহনেও বড় ভূমিকা রাখে। এই প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান চালাতে গেলে আক্রমণকারী বাহিনীকে পাহাড়ি এলাকা, মরুভূমি ও জলাভূমির মতো কঠিন পরিবেশে যুদ্ধ করতে হবে। এসব জায়গায় ভারী সামরিক যান চলাচল করা কঠিন, আর ছোট ছোট ইউনিটে যুদ্ধ করলে বাহিনী সহজেই শত্রুর আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ ছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস গেরিলা যুদ্ধে দক্ষ বলে মনে করা হয়। ফলে নিয়মিত সেনাবাহিনী দুর্বল হলেও অনিয়মিত বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো অভিযান চালায়, তবে তা পূর্ণাঙ্গ স্থল আক্রমণের বদলে সীমিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এতে মূলত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আবার সেনা প্রত্যাহারের কৌশল গ্রহণ করা হতে পারে।
