জ্বালানি তেল পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ: তথ্য দিলে মিলবে ১ লাখ টাকা পুরস্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা
দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই তথ্যদাতাদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা চালু করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যদি জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত কিংবা পাচারের নির্ভরযোগ্য তথ্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সরবরাহ করে, তবে যাচাই-বাছাই শেষে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি না করে গোপনে মজুত রেখে বেশি দামে বাজারজাত করছে—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্যে আমদানি করা জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার জোরালো অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মজুত ও পাচারচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুরস্কার সংক্রান্ত মূল বিষয়গুলো হলো—
তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সম্মানী দেওয়া হবে;
তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে;
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) পুরস্কারের অর্থ প্রদান নিশ্চিত করবেন;
এই সুবিধা দেশের সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার জন্য উন্মুক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পুরস্কারের অর্থ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ফলে তথ্য যাচাই ও প্রশাসনিক অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ থাকবে।
এদিকে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও জ্বালানি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রতিদিন তেল সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনকেও এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ের কোনো সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
সরকার একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিউআর কোড, ব্যানার, লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ভিত্তিক প্রচারের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় ও অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
