যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন শর্ত: টোল আরোপের স্বীকৃতি চাইছে ইরান

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২৯ March ২০২৬, ০৪:৫৫ PM | পঠিত: ২৫ বার

ডেস্ক ররিপোর্ট :
যুদ্ধ বন্ধে নতুন শর্ত যুক্ত করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি এবং টোল আরোপের অধিকার চাইছে ইরান। সাম্প্রতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামনে তেহরান এই দাবি তুলেছে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কম খরচে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে তেহরান। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান নতুন ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথ খুঁজে পেয়েছে এবং এখন সেটিকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ দিতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজে টোল আরোপের যেকোনো চেষ্টা বৈশ্বিক নৌচলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। জি-৭ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও টোলমুক্ত নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রথম ভাষণে বলেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব, তা অব্যাহত রাখা উচিত। দেশটির আইনপ্রণেতারাও একটি বিল বিবেচনা করছেন, যার মাধ্যমে প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোর ওপর ফি আরোপ করা যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজের মতো আন্তর্জাতিক প্রণালিতে টোল আরোপের আইনি ভিত্তি নেই। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুযায়ী, এসব জলপথে সব দেশের অবাধ ট্রানজিটের অধিকার রয়েছে।
তবে বাস্তবে কিছু জাহাজ ইতিমধ্যে বিকল্প করিডর ব্যবহার করছে এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য অর্থ পরিশোধের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। শিপিং সূত্র বলছে, কয়েকটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইরান এই টোল ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারে, তবে তা মাসে ৬০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় এনে দিতে পারে—যা সুয়েজ খালের আয়ের সমপর্যায়ের।
তথ্যসূত্র: সিএনএন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।