মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই বিএনপির রাজনীতি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ১৬ March ২০২৬, ০৭:২৭ PM | পঠিত: ১৪ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, এমন কাজ করতে চায় বিএনপি যাতে আগামী দুই–চার বছরের মধ্যে মানুষের আয় দ্বিগুণ হয়।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় দেশব্যাপী ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনের পর খালের পাড়ে একটি গাছও রোপণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকালেও অনেক জায়গায় পানির অভাব দেখা দেয় এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। তাই বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে কৃষিকাজে ব্যবহার করার জন্য খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলেও তিনি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার এবং এটি পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে যুক্ত। নদীটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর হয়ে প্রবাহিত হয়ে পরে মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।
তিনি বলেন, খালটির পুনঃখনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৩১ হাজার কৃষক ১২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবে। এতে প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৪ কোটি পরিবারকে পারিবারিক কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৭ হাজার মা–বোনের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটির বেশি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হলে দেশের মধ্যেই খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ধান-চালসহ মৌলিক খাদ্য দেশে উৎপাদন করতে হবে। খাল খননের পাশাপাশি খালের দুই পাশে প্রায় ৬০ হাজার গাছ লাগানো হবে এবং চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে খাল-নদী খনন করে ওপরের পানি সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থলে পৌঁছান।
বিকেলে তিনি দিনাজপুরে আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সুধী সমাবেশ, ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এরপর সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।