রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফে যে ফজিলত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এই সময় মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও তাঁর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম উত্তম আমল হলো ইতিকাফ। মহানবী Muhammad (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবিদেরও এতে উৎসাহ দিতেন।
ইতিকাফ কী?
আরবি ‘ইতিকাফ’ শব্দের অর্থ অবস্থান করা বা নিজেকে আবদ্ধ রাখা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দুনিয়ার কোলাহল থেকে দূরে সরে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মগ্ন থাকাকে ইতিকাফ বলা হয়। যিনি ইতিকাফ করেন তাকে বলা হয় মুতাকিফ।
ইতিকাফের ৫টি বিশেষ ফজিলত
১. শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি
ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা। হাদিসে এসেছে—রমজানের শেষ দশকে শবে কদর খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিকাফকারী যেহেতু পুরো সময় ইবাদতে থাকেন, তাই তাঁর শবে কদর লাভের সম্ভাবনা বেশি।
২. হজ ও ওমরার সমান সওয়াব
হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ ও দুটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।
৩. গুনাহ থেকে মুক্তি
ইতিকাফকারী ব্যক্তি দুনিয়ার পাপাচার থেকে দূরে থাকেন। হাদিসে বলা হয়েছে, ইতিকাফকারী গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকে এবং বাইরে থাকা নেককারদের মতো সওয়াব পেতে থাকে।
৪. জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেউ একদিন ইতিকাফ করলে আল্লাহ তার ও জাহান্নামের আগুনের মাঝখানে আসমান-জমিনের দূরত্বের মতো তিনটি পরিখা তৈরি করে দেন—এমন বর্ণনা হাদিসে পাওয়া যায়।
৫. ফেরেশতাদের দোয়া লাভ
যতক্ষণ একজন ইতিকাফকারী নামাজের স্থানে অবস্থান করেন, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য রহমত ও ক্ষমার দোয়া করতে থাকেন।
ইতিকাফ মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই সামর্থ্য থাকলে জীবনে অন্তত একবার হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত পালনের চেষ্টা করা উচিত।
