তেলের বাজারে চাপ, ইরানের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র—নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২১ March ২০২৬, ০৪:২৬ PM | পঠিত: ১৪ বার


ডেস্ক রিপোর্ট :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার চিন্তা করছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত তিন সপ্তাহে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে, সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মিত্রদেশগুলোর কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ভারত, জাপান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এই তেল কিনতে পারবে—এমন পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে কিছুটা বিব্রতকর। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর সময় ইরানের সঙ্গে করা চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। অথচ এখন একই ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ করে দেওয়ার পথে হাঁটছে তার প্রশাসন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ তেলের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে যথেষ্ট নাও হতে পারে। কারণ, ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারের খুব স্বল্প সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারে মাত্র।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের দাবি, ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ চলমান থাকলে এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল ফিরে না এলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু রণক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই—বরং তা বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।