ঢাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন,কোথাও পাম্প বন্ধ : সরকার বলছে সংকট নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক –
দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে রাজধানীর পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সরকার বারবার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পাম্প বন্ধ, সীমিত বিক্রি এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর রমনা ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের লাইন মৎস্য ভবন পেরিয়ে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা হলেও সরবরাহ সীমিত রাখা হয়েছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ১৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।
মগবাজারের সজীব আল মাসুদ বলেন, “কিছু পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি, শেষ পর্যন্ত এখানে আসতে হয়েছে।” তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা পাম্পেও সীমিত পরিমাণ অকটেন বিক্রি হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। মগবাজার মঈন মোটর ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ, শুধুমাত্র ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। একই অবস্থা মহাখালী ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন ও নীলক্ষেতের বিভিন্ন পাম্পেও দেখা গেছে।
প্রাইভেট কার চালক আবদুর রহমান অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রাম যাতায়াতের জন্য প্রচুর তেলের প্রয়োজন হলেও পাম্পে মজুদ থাকা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি। পাম্পের কর্মচারীরা জানান, সংকটের কারণে ১৬ লিটারের বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কিছু গ্রাহক কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তুলেছেন। নীলক্ষেতের মামুন আহমেদ বলেন, “সরকার এক কথা বলছে, পাম্প মালিকরা অন্য কথা। এর পেছনে মজুতদারদের হাত থাকতে পারে।”
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “কিছু অসাধু চক্র অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। মোটরসাইকেলের ট্যাংক ব্যবহার করে অতিরিক্ত তেল নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করার ঘটনা ঘটছে।” তিনি জেলার প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং জনগণ আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনবেন না।
সরকার ইতোমধ্যেই পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ করেছে। এই কর্মকর্তারা তেল উত্তোলন, মজুদ ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবেন এবং প্রতিদিনের হিসাব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেবেন। এছাড়া অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে ভিজিল্যান্স টিম কাজ শুরু করেছে। কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার লিটার তেল জব্দ ও জরিমানাও করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম অস্থির হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। প্রতিদিন দেশের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানির চাহিদা রয়েছে।
রাজধানীর পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, সীমিত বিক্রয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই সাধারণ ভোক্তারা আতঙ্কিত। সরকারের দাবি থাকলেও বাস্তব চিত্র ভোক্তাদের মাঝে সংশয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
