হুমকি ও নিরাপত্তা শঙ্কায় দেশ ছাড়লেন ‘নবীন পাঞ্জাবি’র এমডি নবীন হাশেমি

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২৫ March ২০২৬, ০৩:৫১ PM | পঠিত: ৩৪ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করে আলোচনায় আসা প্রতিষ্ঠান ‘নবীন পাঞ্জাবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নবীন হাশেমি হুমকি ও নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে দেশ ছেড়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান। বিষয়টি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিশ্চিত করেন।
এর আগে বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন নবীন হাশেমি। ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন ফিরব—ইনশা আল্লাহ।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ঈদকে সামনে রেখে কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় তাঁদের দোকানে মব সৃষ্টি করা হয় এবং পুলিশ দিয়ে জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন নম্বর থেকে তাঁকে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও জানান তিনি। হুমকিদাতারা তাঁর ব্যবসা-সংক্রান্ত ভিডিও মুছে ফেলতে বলেন; অন্যথায় অন্যান্য ব্যবসাও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
নবীন হাশেমি জানান, প্রবাসজীবন শেষে করোনাকালে দেশে ফিরে তিনি এই উদ্যোগ শুরু করেন। কম দামে মানসম্মত পোশাক সরবরাহের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী, হিজড়া সম্প্রদায় ও মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা কাজ করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য পাওয়ায় তাঁরা মাত্র ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি-পায়জামা বিক্রি করতে সক্ষম হন। তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আশপাশের কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট—যার মধ্যে ‘প্রিন্স’ নামের একটি দোকানের মালিক মাইকেলও রয়েছেন—পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং ক্রেতাদের হয়রানি করে।
বিষয়টি হাতিরঝিল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুর্তজাকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে সমঝোতার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নবীন হাশেমি বলেন, নানা বাধা ও চাপের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাঁরা কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মার্কেটে পাঞ্জাবি ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে এবং পায়জামা ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি না করার অলিখিত চাপ ছিল। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।