ঈদযাত্রা সামনে: দুই মহাসড়কে তীব্র যানজটের শঙ্কা-
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে পারেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ছুটি স্বল্প হলে এবং শিল্পকারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর না হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের জন্য হেমায়েতপুর-সাভার-নবীনগর ও নবীনগর-বাইপাইল-চন্দ্রা অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এলেঙ্গায় চলমান সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ এবং যমুনা সেতুর দুই প্রান্তেও দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের কারণে বাইপাইল এলাকায় সড়ক সংকুচিত হওয়ায় চাপ বাড়তে পারে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম ঢাল, যাত্রামুড়া, তারাব, ডেমরা, ভুলতা, নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ, ভোলানগর, ইটখোলা, ভৈরব, আশুগঞ্জ, মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ গোলচত্বরে যানজটের ঝুঁকি রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণকাজ চলায় যানবাহন ধীরগতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, কাঁচপুরের পূর্ব ঢাল ও মদনপুর এলাকাতেও চাপ বাড়তে পারে। পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের জন্য সায়েদাবাদ, দোলাইরপাড় ও পোস্তগোলায় বাসের বিশৃঙ্খল থামা এবং কাউন্টারের কারণে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজায়ও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর, উত্তরা, আবদুল্লাহপুর ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকাও ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক দুই লেন হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ রমজানের মধ্যে সব মেরামতকাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে-পরে সাত দিন ভারী পণ্যবাহী ট্রাক সীমিত রাখা এবং ঈদের তিন দিন আগে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক থাকবে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত সড়ক ও যানবাহনের অভাব, যত্রতত্র বাস থামানো এবং অযান্ত্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করা হলে ভোগান্তি বাড়বে। ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর, মহাসড়কে ছোট যান নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর নজরদারি বাড়ালে পরিস্থিতি সহনীয় রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাবে, ঈদে রাজধানী ছাড়তে পারেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ, যাঁদের ৬০-৭০ শতাংশ সড়কপথ ব্যবহার করবেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করছে এবারের ঈদযাত্রার
