ইতালির স্বপ্ন ভেঙে লিবিয়ায় জিম্মি: আগৈলঝাড়ার ৯ যুবক এখনো নিখোঁজ আতঙ্কে
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি:
ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি ও নির্যাতনের অভিযোগে বরিশালের আগৈলঝাড়ার ৯ যুবক এখনো মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন। একই উপজেলার অন্তত ১০ জন দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হলেও বাকিরা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানব পাচার, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩৪ জনকে আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের জামাল মোল্লা, তাঁর ইতালিপ্রবাসী দুই ছেলে জাকির ও সাকিব মোল্লা এবং তাঁর দুই শ্যালক বাবুল ব্যাপারী ও হাবুল ব্যাপারী। এর মধ্যে জামাল মোল্লা, বাবুল ব্যাপারী ও হাবুল ব্যাপারী বর্তমানে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
মামলার বাদী ছোট ডুমুরিয়া গ্রামের মেহেদী হাসান খান অভিযোগ করেন, ইতালিতে বৈধ ওয়ার্ক পারমিটে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র। প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়া হয়, যা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে জমা দেওয়া হয়।
মেহেদী জানান, তাঁকে প্রথমে সৌদি আরব, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁকে লিবিয়ার বেঙ্গাজির বাংকিনা কারাগার-এ পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস বন্দী ছিলেন।
পরবর্তীতে ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের করুণ অবস্থার কথা জানান তিনি। এ সময় তাঁর মুক্তির জন্য আরও ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ধারদেনা করে টাকা পরিশোধ করলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
দেশে ফিরে মেহেদী জানতে পারেন, একই কৌশলে আরও অনেক যুবক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, বিভিন্ন জেলার অন্তত ১০৮ জন যুবক দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং ‘বডি কন্ট্রাক্টে’ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে প্রধান কয়েকজন আসামি বিদেশে থাকায় তদন্ত কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দালাল চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা এবং লিবিয়ায় আটকে পড়া যুবকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
