ঝড়ে নৌকাডুবি: সাগরে দুই ঘণ্টা সাঁতরে বাবার মরদেহ তীরে আনল দুই ছেলে

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ২১ March ২০২৬, ১১:১৩ AM | পঠিত: ১২ বার


ভোলা প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় এক জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত জেলের নাম নূরে আলম (৪৫)। তবে একই ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন তাঁর দুই ছেলে—শাহিন ও শাকিল। নিজেদের জীবন বাঁচানো যেখানে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা সাগরে সাঁতরে বাবার মরদেহ তীরে নিয়ে আসার ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
লক্ষ্মীপুরের বয়ার চর-সংলগ্ন সাগরের মোহনায় শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদুল ফিতরের আগের দিন এমন ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত নূরে আলম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মজিবুল হকের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। নদী ও সাগরে মাছ ধরেই চলত তাঁদের জীবিকা।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নূরে আলম তাঁর দুই ছেলে শাহিন ও শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যান। শুরুতে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করে শুরু হয় প্রবল ঝড়। মুহূর্তের মধ্যে উত্তাল হয়ে ওঠে সাগর, সৃষ্টি হয় বিশাল ঢেউ।
ঝড়ের তীব্রতায় তাঁদের নৌকাটি উল্টে গেলে তিনজনই প্রাণ বাঁচাতে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। দুই ছেলে প্রাণপণ চেষ্টা করেন বাবাকে নিয়ে তীরে ফিরতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর নূরে আলম নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তবুও বাবাকে ফেলে আসেননি তারা। সীমাহীন কষ্ট ও ঝুঁকি সত্ত্বেও প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে তাঁরা বাবার মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বাবাকে হারিয়ে দুই সন্তান বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঈদের আগ মুহূর্তে এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চরফ্যাশনের দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান কবির জানান, ঘটনাটি পুলিশ জেনেছে এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়ার জন্য নিহত জেলের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পিতার প্রতি সন্তানের অগাধ ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।