জোরপূর্বক তেল নেওয়ার অভিযোগে দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার
যশোর প্রতিনিধি :
যুবদলের নাম ভাঙিয়ে জোরপূর্বক পেট্রল নিয়ে পরে খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে যশোরে দুই যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন চূড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম কবির ওয়াসিম এবং একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন জিকো দফাদার।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুস্পষ্ট প্রমাণসহ দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং সকল নেতা-কর্মীকে তাঁদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চূড়ামনকাটি শানতলা এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে অভিযুক্ত দুই নেতা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক খোলা তেল নিয়ে যান। পরে সেই তেল বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে রোববার দুপুরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর তিনি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপজেলা যুবদলের নেতারা। সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর রায়হান তুহিন বলেন, “ঘটনার দিন তারা পাম্পে গিয়েছিল স্থানীয় বিশৃঙ্খলা মেটাতে। জোর করে তেল নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি প্রশাসন দেখছে। এরপরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ দলের ঊর্ধ্বে নয়।”
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের অপেক্ষা করার কথা বলেছেন।
