মসজিদে ইমাম-খাদেম নিয়োগে জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে-
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে দেশের শীর্ষস্থানীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম ও চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খাদেম নিয়োগে জালিয়াতি ও অনিয়মের প্রমাণ হাতিয়ে এসেছে।
মুফতি আহসান উল্লাহ ২০০৬ সালে বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম পদে আবেদন করেছিলেন। সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও তিনি নিয়োগ পাননি। তিনি অভিযোগ করেছেন, “যেসব কর্মকর্তারা ছিলেন, তাদের যোগসাজসে দুর্নীতির কারণে অন্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও ছিটকে পড়েছি।” বর্তমানে মুফতি আহসান উল্লাহ কাতারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মসজিদে পেশ ইমাম হিসেবে কাজ করছেন।
মুফতি আহসান উল্লাহর জায়গায় পেশ ইমাম পদে নিয়োগ পেয়েছেন মাওলানা মিজানুর রহমান। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর ও বয়স জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৬ দিন পর বয়স ৩ বছর কমিয়ে আবেদন করেছেন তিনি। আরও আছে অতিরিক্ত নম্বর বরাদ্দ ও নিয়োগ বোর্ডে আত্মীয়তার তথ্য গোপন করার অভিযোগ।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালে মুফতি আব্দুল হাফিজ মারুফ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম পদে আবেদন করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেও মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাননি। তার জায়গায় নিয়োগ পেয়েছেন মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেম, সাবেক ধর্মমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহর ভাগ্নে। বয়স জালিয়াতি, স্বীকৃতিবিহীন সনদ ও সার্টিফিকেটের গড়মিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নিয়োগের ৮ দিন আগে জন্ম সাল পরিবর্তন করে ১৯৮৭ করা হয়।
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা মসজিদেও অনিয়মের তথ্য রয়েছে। পেশ ইমাম ও খাদেম পদে নিয়োগে জাল সার্টিফিকেট ও মিথ্যা অভিজ্ঞতা সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। আতাউর রহমান ও মাওলানা এহছানুল হকসহ কয়েকজন প্রার্থী প্রার্থিতা অনুযায়ী চাকরি পাননি, তবে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক সচিব রেজাউল করিম জানিয়েছেন, “নিয়োগ বৈধ হয়নি। প্রয়োজনীয় তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিতি না থাকায় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি।”
ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছয় বছরে পাঁচটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবুও মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান জানিয়েছেন, “সনদ নেই বা জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশনে যাব।”
সূত্র : স্টার নিউজ
