এবার ইরান ছুড়ছে ১ টনের মিসাইল, বদলে গেল যুদ্ধক্ষেত্র-

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ১১ March ২০২৬, ১১:০১ AM | পঠিত: ৫৮ বার

ডেস্ক রিপোর্ট :
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের ১১তম দিনে যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে তারা এক হাজার কেজি বা তার বেশি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ভারী মিসাইল ব্যবহার করবে।
রোববার আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি বলেন, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে কম সংখ্যক কিন্তু অধিক বিধ্বংসী ক্ষমতার মিসাইল নিক্ষেপ করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন।
যুদ্ধের শুরুতে ইরান সস্তা শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে একসঙ্গে বহু হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছিল। এই ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ কৌশলের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষকে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করা।
তবে বর্তমানে ইরান খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। এসব মিসাইল এক হাজার কেজির বেশি বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং আঘাত হানলে বড় এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।
ইরানের দাবি, এসব মিসাইল ম্যাক-৮ গতিতে উড়ে এবং এর গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব, ফলে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এগুলো আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে। একটি ভারী মিসাইল সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করলে পুরো বিমানঘাঁটি বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা অচল হয়ে যেতে পারে।
আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামো এখন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন কৌশলের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ একটি ভারী মিসাইল প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে তার ক্ষয়ক্ষতি কয়েকশ ড্রোন হামলার চেয়েও বেশি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের এই ‘হেভি পেলোড’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।