নারীর অধিকার নিয়ে প্রতিশ্রুতি বেশি, বাস্তবায়নে ঘাটতি

কামাল বারি বাংলাদেশ
প্রকাশ: ০৮ March ২০২৬, ১০:৩৩ AM | পঠিত: ২২ বার

রোজা আজাদ:
 

বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে নারীর অধিকার, ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ তিন দশকের অভিজ্ঞতা বলছে—রাজনৈতিক অঙ্গীকারের তুলনায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি।
আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য— “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।” এই প্রেক্ষাপটে নারীর অধিকার ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আবারও আলোচনা সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় নারীর অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে না দেখে কল্যাণমূলক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বিভিন্ন সময়ে আইন, নীতিমালা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নারীর প্রতি সহিংসতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীর সীমিত অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য পুরোপুরি দূর হয়নি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইশতেহারে নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও সেগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন খুব কমই হয়েছে। গত কয়েক দশকে নারীর অবস্থার কিছু উন্নতি হলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় পরিবর্তন আসেনি। তাঁর মতে, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৯১ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারের ইশতেহারে নারী উন্নয়ন, সমান অধিকার, সহিংসতা প্রতিরোধ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নানা সহিংসতার ঘটনা এখনো উদ্বেগজনক হারে ঘটছে বলে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য থেকে জানা যায়।
নারী অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নারীর নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগ সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে প্রতীকী পদ দেওয়া হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতির কারণে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। নারীর অধিকারকে প্রকৃত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অ্যালাউ করুন।